৩০-এর পর পেটে চর্বি কেন জমে? ডাক্তারের সোজা কথা

 ৩০-এর পর পেটে চর্বি কেন জমে? ডাক্তারের সোজা কথা

৩০-এর পর পেটে চর্বি কেন জমে ডাক্তারের সোজা কথা
৩০-এর পর পেটে চর্বি কেন জমে? ডাক্তারের সোজা কথা




কল্পনা করুন, ২৫-এ ছিলেন ফিট, কিন্তু ৩২-এ হঠাৎ পেট বেরিয়ে আসছে। ডায়েট করছেন, জিম যাচ্ছেন, তবু চর্বি কমছে না? চিন্তা করবেন না, এটা অনেকেরই হয়। আমেরিকার গ্যাস্ট্রো এবং লিভার বিশেষজ্ঞ ড. সৌরভ শেঠি বলছেন, ৩০-এর পর শরীরের কিছু 'সাইলেন্ট চেঞ্জ' এর জন্য এমন হয়। আসুন জানি কারণ আর সমাধান।

কেন হঠাৎ পেট বাড়ে? ৩টা বড় কারণ


ড. শেঠি বলেন, "এটা কোনো জাদু নয়—শরীরের সায়েন্স।" দেখুন কী ঘটে:

১. মাসল মাস কমে যায় (সবচেয়ে বড় কারণ)

প্রতি ১০ বছরে আপনার মাংসপেশী ৩-৮% কমে। ফলে শরীর কম ক্যালরি জ্বালায়। উদাহরণ: ১ কেজি মাসল হারালে দিনে ৫০-১০০ ক্যালরি কম বার্ন হয়। খাবার একই রাখলে বাকি চর্বি পেটে জমে। মাসল তো শরীরের ৭০-৮০% গ্লুকোজ 'খায়'—কমলে রক্তে চিনি বেশি থেকে ফ্যাট হয়ে যায়।
২. ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি কমে

প্রতি দশকে ৪-৫% কমে। মানে, একই রুটি খেলে চিনির লেভেল বেশি উঠে, পেটে চর্বি জমে। বিশেষ করে ভিসেরাল ফ্যাট (গভীর পেটের)—যা লিভার, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. হরমোনের খেলা

গ্রোথ হরমোন, টেস্টোস্টেরন/এস্ট্রোজেন কমে; স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বাড়ে। ফলে পেটের চর্বি দ্রুত জমে। যাদের লিভার ফ্যাট বা প্রি-ডায়াবেটিস আছে, তাদের আরও খারাপ।

সিগন্যালসমূহ যা বলে 'সাবধান!':

ওজন একই, কিন্তু পেট বড়।


বিকেলে ক্লান্তি।


চিনির ক্রেভিং।


কার্ব খেয়ে পেট ফোলা।


উপরের পেটে চর্বি।


কী করবেন? ডাক্তারের ৫টা সহজ টিপস


ড. শেঠি বলেন, "এক্সট্রিম ডায়েট নয়, স্মার্ট চেঞ্জ।"

প্রোটিন বাড়ান: শরীরের ওজন প্রতি কেজিতে ১.২-১.৬ গ্রাম (ডিম, মুরগি, ডাল)।


স্ট্রেংথ ট্রেনিং: সপ্তাহে ৩ দিন ওয়েট লিফটিং—মাসল বিল্ড করে।


হাঁটাহাঁটি: দিনে ৩০-৪৫ মিনিট।


ঘুম ফিক্স: ৭-৮ ঘণ্টা, রুটিন মেনটেন।


ব্যালেন্সড খাওয়া: চিনি কম, ফাইবার বাড়ান।

এগুলো ফলো করলে ৩-৬ মাসে পার্থক্য দেখবেন। যদি ডায়াবেটিস রিস্ক থাকে, ডাক্তার দেখান।

শেষ কথা


৩০-এর পর পেটের চর্বি স্বাভাবিক, কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য। মাসল রক্ষা করুন, হরমোন ব্যালেন্স করুন—ফিট ফিরে আসবে। আজ থেকে শুরু করুন!




Next Post Previous Post